পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ভারতে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা অবিরাম ভারী বর্ষণের জেরে বন্যা পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় নেমে এসেছে অসমের ধেমাজি জেলায়। সেখানে তীব্র নদীভাঙনের কারণে একটি রেল সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত। এই বন্যা সংকটের মধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশেও জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে। ধস ও হড়পা বানের কারণে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটক ও রোগীদের এয়ারলিফট করে উদ্ধার করা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধেমাজি জেলার আর্চিপাথর এবং সিমেন চাপারি স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি রেল সেতুর পিলার বা খুঁটি বন্যার জলের তোড়ে এবং নদীপাড়ের তীব্র ভাঙনের কারণে বিপজ্জনকভাবে আলগা হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত, বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই ওই লাইনে ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকায় কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ আহত হননি। বর্তমানে মুরকংসেলেক ও শিলাপাথরের মধ্যে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলের তরফে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ধেমাজি, শিলাপাথর এবং মুরকংসেলেক স্টেশনে জরুরি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে।

অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ধেমাজি জেলার ৪টি রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত প্রায় ৬৯টি গ্রাম এই মুহূর্তে জলের তলায়।

এর ফলে প্রায় ১৬,০০০ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তিনি নিজে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে তিনি জলসম্পদ মন্ত্রী সুশান্ত বড়গোহাঁই এবং রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী কেশব মহন্তকে ধেমাজিতেই ক্যাম্প করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অরুণাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারী বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট হড়পা বান ও ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেই পানিয়র জেলায় হড়পা বানের পর নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু জানিয়েছেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং রাজ্য বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের সহায়তায় ৫টি হেলিকপ্টার সর্টি চালিয়ে জিরো থেকে নাহারলাগুন এবং দাপোরিজো এলাকা থেকে আটকে পড়া ২৫ জন পর্যটক ও ১ জন মুমূর্ষু রোগীকে নিরাপদ স্থানে এয়ারলিফট করা হয়েছে। পোসা ব্রিজের কাছে ধস সরিয়ে রাস্তা সচল করার চেষ্টা চলছে। মৌসম ভবন রাজ্যের ৫টি জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র উত্তর-পূর্বের মানুষের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে। এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ টিমগুলি উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্য করবে।