কৈলাস বিজয়বর্গীয় দাবি করেছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীর মধ্যে নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। শুক্রবার ভোপাল-এ ‘শালিগ্রাম তোমর স্মৃতি কর্মসূচি’-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিজয়বর্গীয় বলেন, সরকার গঠনের পর বহু সরকারি আধিকারিক তাঁর কাছে এসে দাবি করছেন যে তাঁরা একসময় আরএসএসের শাখায় যেতেন। তাঁর কথায়, “আমাদের সরকার গঠনের আগে তো কেউ এসব বলত না। এখন প্রায় প্রত্যেক আধিকারিকই দেখাতে চান যে তাঁরও আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ এমনও দাবি করেন যে তাঁদের বাবা আরএসএসের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে রসিকতার সুরে বিজয়বর্গীয় বলেন, অনেক সময় এমন পদবির কথাও শোনা যায়, যা সংগঠনের কাঠামোয় আদৌ নেই।
বিজয়বর্গীয়র মতে, সংগঠনের সদস্যসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও ভালো মানুষের সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না। তাঁর বক্তব্য, “সংগঠন বড় হচ্ছে, মতাদর্শের প্রসারও হচ্ছে। কিন্তু ভালো মানুষ যদি না থাকে, তাহলে সেই মতাদর্শের গুরুত্ব নিয়েই ভাবতে হবে।
” তিনি শালিগ্রাম তোমর, দেবধর ও সদাশিবের মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে।
রাজীব শুক্লা সামাজিক মাধ্যমে বিজয়বর্গীয়র বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “কৈলাসজি খুবই সঠিক কথা বলেছেন। তিনি বর্তমান বিজেপি এবং আমলাতন্ত্রের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, উমঙ্গ সিংঘার বলেন, যদি মন্ত্রীর কথাই সত্যি হয়, তাহলে প্রশাসনে নিরপেক্ষতার বদলে মতাদর্শগত পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, বিজয়বর্গীয় নিজেই স্বীকার করেছেন যে সংগঠন শক্তিশালী হলেও ভালো মানুষের অভাব দেখা দিচ্ছে, যা বিজেপি ও তার সাংগঠনিক চরিত্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দেয়।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশে সরকারি কর্মীদের আরএসএসের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং-এর সরকার সরকারি কর্মীদের আরএসএসের শাখা বা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে ২০০৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-এর আমলে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।