নদিয়ার কালীগঞ্জের স্কুলছাত্রী তামান্না খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এফআইআরে নাম থাকা প্রায় সব অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানান, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আক্রান্ত পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া এবং অপরাধীদের আইনের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি করা।

গত বছরের ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তৃণমূলের জয়ের পর বের হওয়া বিজয় মিছিল থেকে সিপিআই(এম) সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়। সেই বোমার আঘাতেই প্রাণ হারায় মাত্র ১০ বছরের স্কুলছাত্রী তামান্না খাতুন।

গত মঙ্গলবার এই ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ওই দিনই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তামান্নার মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি এবং মোস্তাফিজুর রহমান। সেই দিনই এই মামলায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রাজ্যের বাইরে গিয়েও অভিযান চালিয়েছে।

গুরগাঁও এবং নাগপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতিতে তিনি সন্তুষ্ট এবং এজন্য কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তামান্নার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“তামান্নার শোকার্ত মায়ের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অপরাধীরা আইনের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হয়। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আমি জানাতে চাই, এফআইআরে নাম থাকা প্রায় সব অভিযুক্তই এখন পুলিশের জালে।

গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে জিয়ারুল শেখ, সাবির শেখ, ফকার শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ, মিনারুল শেখ, আনিসুর শেখ, মিলন শেখ, রাজাবুল শেখ, জাকাত শেখ, সাহিবুল শেখ, আমিরুল শেখ এবং রাকিবুল শেখ।
এদিকে, এই গ্রেপ্তারিকে স্বাগত জানিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, “তামান্নার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসার শিকার সব পরিবারের বিষয়ই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলাম। এই গ্রেপ্তারি প্রমাণ করছে, সরকার চাইলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। আমরা কামদুনির ঘটনাতেও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছি।”
তামান্না খুনের ঘটনায় নতুন করে একাধিক গ্রেপ্তারির পর নিহতের পরিবারে ন্যায়বিচারের আশা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও ভূমিকা থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।