ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া নাজুক সমঝোতা নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালি-তে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম দপ্তর জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।
এদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন:
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দর সংলগ্ন এলাকায় প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হেনেছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘নির্বোধের মতো লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, তবে ইরান আবার হামলা চালালে তার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের অনুমোদিত নৌপথ ছাড়া অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা যাবে না। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের নির্দেশনা অমান্য করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমেছে, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আরও পড়ুন:
এদিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর করতে শক্তিশালী যাচাইব্যবস্থা অপরিহার্য।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের কথা রয়েছে। তবে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই প্রক্রিয়া এবং পুরো যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে।