পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর খেলা দেখে ভক্তরা নিশ্চিতভাবেই হতাশ হবে। এ যেন সেই ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রতিচ্ছবি। বরং তার থেকে আরও খারাপ অবস্থা। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। গোল লক্ষ্য করে শট? মাত্র একটা। আর কলম্বিয়ার বক্সে বল স্পর্শ করেছেন বার তিনেক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পারফরমেন্সের ছবিটা এতেই ধরা পড়ে। তাঁর খারাপ পারফরমেন্সের প্রভাব দলেও। কলম্বিয়ার কাছে আটকে গিয়ে গ্রুপে রানার্স হয়ে নকআউটে পর্তুগাল। ম্যাচের পল গোলশূন্য।

 

পর্তুগালের এই খারাপ পারফরমেন্সে দায় কি একার রোনাল্ডোর? আসলে পর্তুগালের মাঝমাঠকে দাঁড়াতেই দেয়নি কলম্বিয়া। হামেস রড্রিগেজ, লুইস দিয়াজ, জন আরিয়াস, জন কর্ডোবারা যেভাবে আক্রমণে ঝড় তুলেছিলেন, দিশেহারা হয়ে পড়েছিল পর্তুগাল রক্ষণ। কলম্বিয়ার আক্রমণের ঝড় সামলাতে পর্তুগালের মাঝমাঠকে বারবার নেমে আসতে হচ্ছিল রক্ষণ সামাল দিতে। ফলে মাঝমাঠে খেলা তৈরি হয়নি। সেভাবে বলের জোগানই পাননি রোনাল্ডো। 

ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কলম্বিয়া। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে পর্তুগালের ছিল ৪ পয়েন্ট। গ্রুপ শীর্ষে থাকতে গেলে পর্তুগালকে জিততেই হত। অন্যদিকে, ড্র করলেই চলত কলম্বিয়া। আফ্রিয়ার এই দেশটা কিন্তু ড্রয়ের জন্য মাঠে নামেনি।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে খেলেছে, তাতে কলম্বিয়ার জয় না পাওয়াটা আশ্চর্যের। হামেস রড্রিগেজ, লুইস দিয়াজরা একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ব্যতিব্যস্ত করে দিচ্ছিলেন পর্তুগাল রক্ষণকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। কলম্বিয়ার লক্ষ্য ছিল কলম্বিয়ার সেরা তারকা রোনাল্ডোকে বল ধরতে না দেওয়া। সেই লক্ষ্যে তারা সফল। রোনাল্ডো নিস্প্রভ থাকায় পর্তুগালের খেলাতে সেই দাপটও উধাও। গোটা ম্যাচে কলম্বিয়ার গোল লক্ষ্য করে মাত্র ১৩টি শট নিতে পেরেছিল পর্তুগাল। অন্যদিকে, পর্তুগালের গোল লক্ষ্য করে ২৪টি শট নিয়েছিল কলম্বিয়া। এর থেকেই পরিস্কার গোটা ম্যাচে কাদের দাপট বেশি ছিল। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে অফসাইডের কারণে ডেভিনসন স্যাঞ্চেজের গোল বাতিল না হলে জিতেই মাঠ ছাড়ত কলম্বিয়া। পর্তুগালকে আটকে গ্রুপসেরা হয়েই নকআউটে কলম্বিয়া।

৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭। ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স পর্তুগাল। গ্রুপ থেকে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ ৩২,এ জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। 

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই ইতিহাস ডিআর কঙ্গোর। এই প্রথমবার তারা বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছল। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল কঙ্গো। এবার প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে ১,১ গোলে আটকে দিয়ে চমক দিয়েছিল। দুর্দান্ত লড়ে কলম্বিয়ার কাছে হার ১,০ গোলে। এদিন উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মুখ দেখল। আর এই জয় তাদের পৌঁছে দিল নকআউটে। যদিও ম্যাচের ১০  মিনিটে এলডর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল উজবেকিস্তান। ৬৮ মিনিটে ইউয়ান উইসা পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান। ১০ মিনিট পর ফিস্তন মায়েলে গোল করে কঙ্গোকে ২,১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচে ইনজুরি সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন উইসা।