পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কন্যাসন্তানটি জন্ম নেওয়ার আগেই তার ওপর নজর পড়েছিল পাচারকারীদের। অন্ধ্রপ্রদেশের এক দম্পতির কাছে তাকে চড়া দামে বিক্রি করার ছক কষেছিল তারা। কিন্তু গত মে মাসে ফুটফুটে নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে মন গলে যায় গাজিয়াবাদের এক দরিদ্র দিনমজুর দম্পতির। তাঁরা সন্তান বিক্রি করতে স্পষ্ট অস্বীকার করেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ১১ দিনের শিশুকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে পাচারকারীরা।
আরও পড়ুন:
তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ট্রনিকা সিটি থানার পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দিল্লি-এনসিআর জুড়ে সক্রিয় এক বিশাল আন্তঃরাজ্য শিশু পাচার চক্রের হদিশ পেয়েছে। শুক্রবার আরও ৩ জনসহ এই চক্রের মোট ১৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে পূজা কলোনির এক দিনমজুরের বাড়ি থেকে ওই ১১ দিনের কন্যাসন্তানকে অপহরণ করে পূজা নামের এক নারী। এরপর সে শিশুটিকে মনোজ নামের আরেক পাচারকারীর হাতে তুলে দেয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা রাজু এবং দীপ্তি নামের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করার।
কিন্তু তার আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার ট্রনিকা সিটি থেকে নতুন করে ধৃত ৩ অভিযুক্তের নাম তরুণম (২৯), অনিল লাকড়া (৩৩) এবং করুণ (৪৯)।আরও পড়ুন:
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই সিন্ডিকেটের জাল উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত। চক্রের সদস্যরা প্রথমে দিল্লি-এনসিআর এলাকার অত্যন্ত দরিদ্র এবং আর্থিক অনটনে থাকা গর্ভবতী মা ও পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করত। এরপর টাকার লোভ দেখিয়ে সন্তান প্রসবের পর তা বিক্রি করার জন্য পরিবারগুলিকে রাজি করানোর চেষ্টা চলত। সমস্ত তথ্য আদান-প্রদান হতো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে।
কাজ শেষ হওয়ামাত্রই প্রমাণ লোপাটের জন্য সব চ্যাট ডিলিট করে দেওয়া হতো। নবজাতক জন্ম নেওয়ার পর তাদের মূলত তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের নিঃসন্তান ও সচ্ছল দম্পতিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো।আরও পড়ুন:
তদন্তে নেমে পাচারকারীদের আরও এক মারাত্মক কারচুপির কথা জানতে পেরেছে পুলিশ। ধৃত অনিল ও করুণ স্বীকার করেছে, কোনো পরিবার যদি সন্তান বিক্রি করতে রাজি হতো, তবে তাদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও জালিয়াতি করা হতো। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, "শিশু জন্মের পর পাচারকারীরা চুক্তির টাকা দেওয়ার সময় কয়েকটি আসল নোটের সঙ্গে প্রচুর জাল নোট মিশিয়ে দিত। অভাবী বাবা-মায়েরা যখন বুঝতে পারতেন যে তাঁরা জাল নোট পেয়েছেন, ততক্ষণে শিশুটিকে নিয়ে চম্পট দিত গ্যাংটি। যেহেতু বাবা-মায়েরা নিজেরাও টাকা নিয়ে সন্তান বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন, তাই আইনি ভয়ে তাঁরা নিজেরা আর পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যেতেন না।"