পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট ‘মহা বিকাশ আঘাড়ী’-র রথ কি এবার সত্যিই লাইনচ্যুত হতে চলেছে? বুধবার সন্ধ্যায় জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল বৈঠকে ৬০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ২৩ জনের অনুপস্থিতি এই প্রশ্নকে আরও বড় করে তুলেছে। অনুপস্থিতদের তালিকায় রয়েছেন খোদ ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শরদ পওয়ার এবং তাঁর দলের প্রবীণ নেতা জয়ন্ত পাতিল। যদিও তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে তাঁরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

বৈঠক এড়ানো বড় নামের তালিকা এখানেই শেষ নয়। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা নানা পাটোলে এবং বিজয় ওয়াহদেত্তিওয়ারও এই বৈঠকে ছিলেন না। ওয়াহদেত্তিওয়ারের কার্যালয় অবশ্য জানিয়েছে, তিনি অসুস্থ।

গত সপ্তাহে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা শিবিরের ৬ জন সাংসদ দল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমভিএ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে।

চার বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার নিজের দল ভাঙার পর চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। বৈঠকে জোটের অন্দরের ফাটল নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্ধব আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা বলি আমরা একসঙ্গে আছি... কিন্তু আমরা কি সত্যিই একসঙ্গে আছি? আমরা কি বিধানসভায় মহা বিকাশ আঘাড়ী হিসেবে ঐক্যবদ্ধ? আমরা কি যৌথভাবে জনস্বার্থের ইস্যুগুলো তুলে ধরছি?
"

দলত্যাগীদের নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি তাঁর অনুগামীদের বার্তা দেন, "যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের চলে যেতে দিন। এখন আমাদের ফোকাস করা উচিত তাঁদের ওপর, যাঁরা এখনও আমাদের পাশে আছেন।" এরপরই সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, এমভিএ এখনও একটি বড় শক্তি এবং জোটের ঐক্য বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে যৌথ সমাবেশ ও বৈঠক করা উচিত।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দলত্যাগী ৬ সাংসদের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। মূলত তিন দিন আগে শুরু হওয়া বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে সরকারকে কীভাবে কোণঠাসা করা হবে, সেই রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শিন্ডে ও বিজেপি জোটের কাছে ৬ সাংসদ হারানোর ঠিক কয়েকদিনের মাথায় এই বৈঠকটি ছিল এমভিএ জোটের জন্য এক প্রকার ‘অগ্নিপরীক্ষা’, যাতে বহু নেতাই অনুপস্থিত ছিলেন। আপাতত নতুন কোনো বিদ্রোহের খবর না থাকলেও, ২০২২ সালের জুনে শিবসেনার প্রথম ভাঙন এবং ২০২৩ সালের জুনে এনসিপি-র একই ধরণের ভাঙনের স্মৃতি বিরোধীদের মনে নতুন করে ভয়ের সঞ্চার করছে।