পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক এবং একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করল সিজেপি। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জন্মদিনকেই প্রতিবাদের হাতিয়ার করলেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা দীপকে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দীপকে একটি হোয়াইটবোর্ডে লিখছেন, "শুভ জন্মদিন, প্রধান। দয়া করে পদত্যাগ করুন।"
আরও পড়ুন:
আর ব্যাকগ্রাউন্ডে তাঁর সমর্থকেরা শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে জন্মদিনের গান গাইছেন।
এই বার্তা লেখার পর দীপকে ক্যামেরার সামনে বলেন, "আপনাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা, ধর্মেন্দ্র প্রধান। দয়া করে আমাদের ওপর একটা উপকার করুন এবং পদত্যাগ করুন। জন্মদিনের উপহার হিসেবে আমরা আপনাকে একটি ইস্তফাপত্রও পাঠিয়ে দিতে পারি—আপনাকে কেবল ওটাতে বুড়ো আঙুলের ছাপ বা স্বাক্ষর করতে হবে।" কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপি-র ধর্না-প্রদর্শন শুক্রবার সপ্তম দিনে পদার্পণ করল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনস্থল ছাড়তে অস্বীকার করেছেন সিজেপি প্রধান।আরও পড়ুন:
এর আগে, আন্দোলনের পঞ্চম দিনে সিজেপি-র ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা উইথহোল্ড করে দেওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের একটি কমিটির সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন দীপকে। কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি যুক্তি দেন, কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হলো, তার কোনো সদুত্তর দেয়নি প্রশাসন। নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের উদ্দেশে দীপকে প্রশ্ন করেন, "এখানে সবকিছুই তো আপনারা অত্যন্ত গোপন রাখছেন; আপনাদের তো নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটাও এভাবে গোপন রাখা উচিত ছিল। তাহলে সেটি কেন ফাঁস হলো? প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলে এই ছাত্রমৃত্যু বা আত্মহত্যাগুলো ঘটত না।
"আরও পড়ুন:
আন্দোলন মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সিজেপি প্রধান। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী একজন মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নিতে পারেন না, অথচ দাবি করেন যে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন! তিনি কি দেশের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া থামাতে পারেন না?" নিট কেলেঙ্কারির জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করে তিনি বলেন, "এই সমস্ত আত্মহত্যার জন্য কে দায়ী? এর জন্য একমাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধানই দায়ী।" উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।