পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :
আফ্রিকার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ১ হাজার ১৫৫ জনের মধ্যে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত এই প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে ৩৪টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর তিনটি প্রদেশ ইতুরি, নর্থ কিভু এবং সাউথ কিভুতে সংক্রমণ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। ইতুরি প্রদেশে নতুন করে আরও ১৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পর মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে।

এদিকে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, মহাদেশজুড়ে ইবোলা প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
সংস্থাটির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া এক ভার্চুয়াল সংবাদিক  সম্মেলনে বলেন, এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা—উভয় খাতে ব্যয় করা হবে। সম্প্রতি আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশ ও অংশীদার সংস্থা ৯১০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত এর মাত্র ১৩ শতাংশ অর্থ ছাড় হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ডিআর কঙ্গো সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইবোলা আক্রান্ত এলাকা থেকে আগত যাত্রীদের জন্য ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।