সস্তায় রেস্তরাঁর সরঞ্জাম কেনার লোভ দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৭.৬৪ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেঙ্গালুরুতে। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টাকা রূপান্তরের প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোডিগেহাল্লির বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী একটি ক্যাফে খোলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই কারণে তিনি অনলাইনে রান্নাঘরের আধুনিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজছিলেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, জাপান ও চিন থেকে অনেক কম দামে এসব সামগ্রী আমদানি করা সম্ভব।

তবে তার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে হবে।

বন্ধুর পরামর্শে তিনি একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেন। সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। গত ৮ জুন ওই ব্যক্তি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে ২.৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইউএসডিটি নামের ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রান্সফার করে দেয়। প্রথম লেনদেন সফল হওয়ায় অভিযুক্তদের প্রতি ব্যবসায়ীর বিশ্বাস তৈরি হয়।
এরপর আরও বড় অঙ্কের ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার জন্য তিনি ১৭.৬৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযুক্তরা তাঁকে নগদ টাকা নিয়ে বেঙ্গালুরুর সঞ্জয়নগরের কল্পনা চাওলা রোডে আসতে বলে। নির্দিষ্ট রাতে ব্যবসায়ী তাঁর ভাই ও এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান।

অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল একদল দুষ্কৃতী। ব্যবসায়ী পৌঁছানো মাত্রই তাঁর কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী, তাঁর ভাই এবং বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্তরা নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর সঞ্জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ।

বিভিন্ন সূত্র ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১১ জুন দেবসান্দ্রা এলাকা থেকে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় তারা আরও আটজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ১৩.৯০ লক্ষ টাকা নগদ, ছয়টি মোটরসাইকেল, একটি গাড়ি এবং অপরাধে ব্যবহৃত ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের আরও একজন সদস্য এখনও পলাতক। তাকে খোঁজার জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, অচেনা ব্যক্তির মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন কিংবা দ্রুত লাভের আশায় বিনিয়োগ করতে গিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।