পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে এবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ,  এত বড় অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,  সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওয়াইসি বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তাঁর দাবি, বিভিন্ন ঘটনায় প্রশাসনের পদক্ষেপের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন,  এই ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কি একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,  যেমনটি অন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়?  তাঁর কটাক্ষ,  অভিযুক্তদের লক্ষ্য করে কি গুলি চালানো হবে,  নাকি বাড়িঘর ভাঙার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে? তাঁর কথায়, "ধর্মের নামে কি রাম মন্দিরের মামলাটি বরদাস্ত করা হবে?

এফআইআর হলে কি পায়ে গুলি করা হবে, নাকি বাড়িঘর ভাঙতে বুলডোজার আসবে?" ওয়াইসির অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার অভিযান এবং কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি,  আইনের প্রয়োগে বৈষম্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি।

তিনি বলেন, রাস্তায় নামাজ পড়ার জন্য সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, অথচ অন্যান্য ধর্মীয় মিছিলকে জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। এদিকে রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও চূড়ান্ত অঙ্ক এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।