রুবাইয়া জুই: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে মঙ্গলবার দুপুরের জঙ্গি হামলায় (Pahalgam Terror Attack) প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন পর্যটক। যদিও এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।  নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তিন বাসিন্দা। আহত আরও অনেকে। মঙ্গলবার রাতেই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-ই-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার সকালে তিনি পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের শেষ শ্রদ্ধাও জানান। কথা বলেন তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে। জরুরি পরিস্থিতিতে উপত্যকায় পৌঁছেছে জাতীয় তদন্তকারী দল এনআইএ। অন্যদিকে এই ঘটনায় এআইএমআইএম সভাপতি এবং সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।

তিনি বলেন, "এই হামলার (Pahalgam Terror Attack) পেছনে যারাই থাকুক না কেন, তাদের কঠোরতম শাস্তি পাওয়া উচিত।" সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এ এক টুইট বার্তায় ওয়াইসি বলেন, "পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং  অপরাধীদের আইনের আওতায় কঠোরতম শাস্তি দেওয়া উচিত। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের এবং তাদের পরিবারের পাশে আছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছি।" তিনি আরও বলেন যে "এই ধরনের হামলার কোনও স্থান থাকা উচিত নয় এবং দোষীদের রেহাই দেওয়া উচিত নয়।"

আরও পড়ুন: Pahalgam Terror Attack: অকাশ্মীরিরাই ছিল টার্গেট, দাবি কাশ্মীর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের

 

বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতি পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার (Pahalgam Terror Attack) নিন্দা করেছেন। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। আর সেখান থেকেই মেহবুবা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, "মানুষ এখানে আনন্দ করতে আসেন। এটা কাপুরুষচিত আক্রমণ। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

"  এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে পিডিপি সভাপতি লেখেন,"পর্যটকদের উপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে চেম্বার অ্যান্ড বার অ্যাসোসিয়েশন জম্মু সম্পূর্ণ বনধের ডাক দিয়েছে। আমি সকল কাশ্মীরিদের কাছে আবেদন করছি যে তারা যেন একত্রিত হন এবং পহেলগাঁও নৃশংস হামলায় নিহত নিরীহ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বনধকে সমর্থন করেন। এই আক্রমণ কেবল কয়েকজনের উপর নয়, আমাদের সকলের উপর। আমরা শোক ও ক্ষোভে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি এবং নিরীহদের গণহত্যার নিন্দা জানাতে এই বনধকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।"

শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, সিনে তারকারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভয়াবহ হামলার নিন্দা করেছেন।এক্স হ্যান্ডেলে শাহরুখ লিখেছেন, "পহেলগাঁওতে যে বর্বর অমানবিক জঙ্গিহামলা ঘটেছে তার দুঃখ ও রাগ বহিঃপ্রকাশের ভাষা নেই। এরকম সময়ে উপরওয়ালার কাছে শুধু প্রার্থনাই করা যায় যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁদের পরিবারের জন্যে। আমিও সমবেদনা জানাই। এক দেশ হিসেবে একাত্ম হয়ে এরকম নৃশংস ঘটনার বিচার চাই।" ফারহান আখতারও এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন, "পহেলগাঁও-তে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গভীর ভাবে আহত।

নিরীহ মানুষদের উপর এই হত্যালীলা কোনও অজুহাত হতে পারে না। এই ঘটনার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত। নিহতদের পরিবারের সদস্যের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। এই দুঃসময়ে কাশ্মীরের মানুষের পাশে আছি।"

 

আবার পহেলগাঁও ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে বুধবার জম্মু ও কাশ্মীর বনধ পালন করছে। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরের এটিই প্রথম সম্পূর্ণ বন্ধ।  মূলধারার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টিও এই ডাকে সমর্থন জানিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এই হামলাকে ‘জম্মু ও কাশ্মীরের আত্মার উপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং বন্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এদিন সকাল থেকেই ডোডা, কিশতওয়ার, উধমপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদে নেমেছে বহু মানুষ। অভিযুক্ত জঙ্গিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সকলে। প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছেন সমস্ত ধর্মের মানুষরা।

https://www.youtube.com/watch?v=2OT_WhGEfys