পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় কয়েকশো কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর বাকি অংশ কোথায় গেল, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে অযোধ্যার বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁদের আগামী সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন টিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প শুক্লা, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তাঁদের বাড়িতে এখনও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আরও পড়ুন:
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা মন্দিরের অনুদানের বিপুল অঙ্কের অর্থ সরানোর সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রামমন্দিরে নগদ অনুদান হিসেবে ৩ হাজার ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা জমা পড়েছিল। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সোনা, রুপোর গয়না এবং মূল্যবান সামগ্রীও দান হিসেবে এসেছিল।
কিন্তু এই সম্পদের একটি বড় অংশের কোনও যথাযথ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, নগদ অর্থের পাশাপাশি দানে পাওয়া কয়েকটি মূল্যবান রুপোর সামগ্রীও নিখোঁজ রয়েছে। ফলে অনুদানের প্রকৃত পরিমাণ এবং গায়েব হওয়া সম্পদের অঙ্ক নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর প্রাক্তন চালক টিন্নু যাদবের কাছেই দানবাক্সের চাবি থাকত এবং অনুদান গণনার কাজেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত রামশঙ্কর মিশ্র ও তাঁর ছেলে অনুকল্প মিশ্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রামশঙ্করের জামাই লবকুশ মিশ্র আত্মসাৎ করা অর্থ বণ্টনের দায়িত্বে ছিলেন। যদিও তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও বিপুল সম্পদের কোনও হদিশ এখনও পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন:
এদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই ঘটনায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লার দাবি, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা মূল চক্রের সামান্য অংশমাত্র। তাঁর অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকতে পারেন এবং তাঁদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি।