জমি বা বাড়ির রেজিস্ট্রেশন করাতে গিয়ে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেজিস্ট্রি অফিসে বসে থাকতে হবে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার থেকে অনলাইনে আগাম সময় নির্ধারণ করে রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য চালু হচ্ছে ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’ পরিষেবা।
আরও পড়ুন:
নতুন ব্যবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজেদের সুবিধামতো দিন ও সময় বেছে নিতে পারবেন।
সেই নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সই-সাবুদ করলেই কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকটাই কমবে।তবে অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রয়োজন পড়ে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই চালু করা হচ্ছে ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’ পরিষেবা। এই সুবিধার জন্য জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রেশন বিভাগের নির্দিষ্ট পোর্টালে আলাদা একটি সংযোগ থাকবে। সেখানে আবেদন করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হবে। এই পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজ্যের এক আধিকারিক জানান, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন বা অন্য কোনো জরুরি কারণে একদিনের মধ্যেই সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন করানোর দরকার পড়ে। কিন্তু আগে থেকে সব সময় নির্ধারিত থাকলে তা সম্ভব হয় না। নতুন এই পরিষেবা সেই সমস্যার সমাধান করবে।
সূত্রের খবর, আগামী দেড় মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গড়িয়া এবং বিধাননগর এলাকায় এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে দুর্গাপূজার আগেই গোটা রাজ্যে অনলাইন স্লট বুকিং ও ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’ পরিষেবা চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে সম্পত্তির বাজারমূল্য, স্ট্যাম্প শুল্ক ও রেজিস্ট্রেশন ফি জানতে হয়। এরপর অনলাইনে অর্থ জমা দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে একাধিক ধাপ পেরিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হয়, যার জন্য অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে আধ ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রশাসনের।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ২২ লক্ষ জমি ও বাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাত থেকে রাজ্যের আয় ৯ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে, যা একটি রেকর্ড। প্রশাসনের আশা, অনলাইন ও দ্রুত পরিষেবা চালু হলে আগামী দিনে এই রাজস্ব ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।