পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ সংঘাতের পর অবশেষে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল এবং পরবর্তীতে সেই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করবে লেবাননের সেনাবাহিনী। কিন্তু, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চুক্তি হলেও শান্তি ফিরবে কি না টা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ হিজবুল্লাহ সতর্ক করেছে যে এই চুক্তিটি বৃহত্তর সংঘাত থামানোর পরিকল্পনাকে ব্যাহত করবে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সেখানে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি কাঠামো তৈরির সূচনা করেছে।
তিনি আরও বলেন, "এটা তো সবে শুরু, সামনে অনেক কাজ বাকি আছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে জয় বলে মনে করছেন। নেতানিয়াহু বলেন, "ইরান চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে, কিন্তু কার্যত ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে বলছে, এটা ইরানের কোনো ব্যাপার নয়। লেবাননে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই, না হিজবুল্লার আছে।"আরও পড়ুন:
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন যে, এই চুক্তির অধীনে লেবাননের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করার জন্য দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত এবং ঘরহারানো নাগরিকদের ফিরে আসার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তাদের দখল করা অঞ্চল প্রত্যাহার করবে না।
আরও পড়ুন:
এদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এটিকে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত করার দিকে "প্রথম পদক্ষেপ" বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু হিজবুল্লার এমপি হাসান ফদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের এই স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করার একটি প্রচেষ্টা। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল চলমান শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননের সংঘাতের সমাধান করা হবে। ফাদলাল্লাহ আরও বলেছেন, "লেবাননের সরকার আমেরিকার সমর্থনে গৃহযুদ্ধে না গেলে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে পারবে না।" অর্থাৎ তিনি এরফলে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখছেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকে হিজবুল্লা তাদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে এবং লেবাননের ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। এর আগে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা শুরু হলেও তা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এখন নজর ইজরায়েল-লেবানন চুক্তির বাস্তবায়নের দিকে।