পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ উত্তরাখন্ডের কর্ণপ্রয়াগ এবং নাগরাসু গুরুদ্বারাকে ঘিরে সম্প্রতি হিংসার জেরে বিভিন্ন নিহাং শিখ সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দেয়। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচীকে ঘিরে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের সীমান্তে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনার ছড়ায়। একদল নিহাং শিখ কুলহাল সীমান্তে পুলিশের বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে হেমকুন্ড সাহিবের উদ্দেশে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি বাঁধে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচী ঘিরে প্রশাসনের আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল, পাঞ্জাব থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিহাং শিখ সীমান্তে পৌঁছতে পারেন।
সেই কারণেই আগে থেকেই কুলহাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে একাধিক ধাপে লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়। এছাড়াও হিংসা মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গ্রামীণ পুলিশ সুপার পঙ্কজ গাইরোলা জানান, কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বলয় ভেঙে রাজ্যের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের আটকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে মহকুমা শাসক, তহসিলদারসহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা নিহাং শিখদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেই আলোচনা থেকে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসেনি।আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী নীল পোশাক পরে বহু নিহাং শিখের হাতে তলোয়ার, লাঠি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ছিল। তাঁরা ব্যারিকেড সরিয়ে নিজেদের মিছিল চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কর্ণপ্রয়াগের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার নিহাং শিখকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা পাঞ্জাবে ফিরবেন না।
তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থনা করতে করতে তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করতে চান এবং সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান।আরও পড়ুন:
নিহাং প্রতিনিধিদের আরও দাবি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তারা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের জামিনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। তবে ওই চারজন মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা উত্তরাখণ্ডেই অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন কর্ণপ্রয়াগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একদল নিহাং শিখের বচসা সংঘর্ষে পরিণত হয়। পুলিশের অভিযোগ, সেই ঘটনায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন, পাশাপাশি এক নিহাং শিখও আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করে চারজন নিহাং শিখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।