ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আবারও কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। দেশটির উত্তর উপকূলে নতুন করে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা দুর্যোগপীড়িত মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া একাধিক ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ধ্বংসস্তূপ, প্রাণহানি এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেও মারাকাই এবং রাজধানী কারাকাসে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এর আগে গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। সেই জোড়া ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বহু বহুতল ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলা সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন।
এখনও ১৭২ জনের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।আরও পড়ুন:
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ বহু এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি এবং অসংখ্য ভবনের ধ্বংসস্তূপে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।আরও পড়ুন:
নতুন করে আবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একের পর এক আফটারশক বা পরাঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুর্যোগের এই ভয়াবহতার মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান এবং আহতদের চিকিৎসাই এখন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।