তারাতলার ভয়াবহ গোডাউন ধস কেড়ে নিয়েছে একাধিক প্রাণ। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। এই মৃত্যুমিছিলের মাঝেই সামনে এসেছে এক অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার গল্প। স্ত্রীর এক গ্লাস জল চাওয়ার আবদারই যেন নতুন জীবন ফিরিয়ে দিল ঝাড়খণ্ডের শ্রমিক প্রদ্যুৎ মুণ্ডাকে।

বুধবার দুপুরে তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সেই সময় ভবনের ভেতরেই কাজ করছিলেন প্রদ্যুৎ মুণ্ডা এবং তাঁর স্ত্রী বোধন মুণ্ডা।

কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বদলে যায় তাঁদের জীবন।
প্রদ্যুতের কথায়, কাজের ফাঁকে তাঁর স্ত্রী জল খেতে চান। তিনি তাঁকে বাইরে গিয়ে জল এনে দিতে বলেন। স্ত্রীর কথামতো ভবনের বাইরে বেরিয়ে রাস্তার ধারের একটি দোকানে জল ও কিছু খাবার কিনতে গিয়েছিলেন প্রদ্যুৎ। ঠিক সেই সময়ই কানে আসে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মতো শব্দ। ফিরে তাকিয়ে দেখেন, যে ভবনে তিনি কিছুক্ষণ আগেও কাজ করছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

সবকিছু ফেলে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে দেখেন, বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে।
অন্যদিকে, প্রদ্যুতের স্ত্রী বোধন মুণ্ডা ওই ধসে আহত হন। তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে স্বামীকে সম্পূর্ণ অক্ষত দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়েও বোধনের একটাই কথা, “যদি আমরা দুজনেই আহত হতাম, তাহলে আমাদের দুই সন্তানকে দেখত কে?” ঝাড়খণ্ডে তাঁদের ১৩ বছরের মেয়ে ও ৭ বছরের ছেলে রয়েছে। পেটের তাগিদে সন্তানদের বাড়িতে রেখে কাজের খোঁজে বাংলায় এসেছিলেন এই দম্পতি।
প্রদ্যুৎ আরও জানিয়েছেন, নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। অনেকের মাথায় হেলমেটও ছিল না। কাজের সময় লোহার বিম কাঁপত এবং শ্রমিকদের মধ্যেও ভয় কাজ করত। তবু জীবিকার তাগিদে সবাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তারাতলার এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের মধ্যে প্রদ্যুৎ ও বোধনের কাহিনি যেন জীবনের আরেক নাম হয়ে উঠেছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে প্রদ্যুৎ এখন শুধু একটাই কথা বলছেন, স্ত্রীর সেই এক গ্লাস জলের আবদার না থাকলে হয়তো তিনিও আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অসংখ্য মানুষের একজন হয়ে যেতেন।