পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলা সংশোধানাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল বছর ২৬-এর যুবক আদিলের। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কারাগারের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানোর ফলেই মৃত্যু হয়েছে আদিলের। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
পারিবারিক সুত্রের খবর, আদিল শামলি জেলার খেদা কুরতান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের দাবি, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ষণ এবং শিশু সুরক্ষা আইনের আওতায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় আদালতে হাজির করার পর গত ২০ জুন আদিলকে মুজাফফরনগর জেলা সংশোধানাগারে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিলেন, এক নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন আদিল। তবে জেলে যাওয়ার পরেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।আরও পড়ুন:
আদিলের বাবা সেলিম অভিযোগ করেছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর ছেলেকে বারবার মারধর ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দেখা করতে গেলে আদিল প্রায় প্রতিবারই নির্যাতনের কথা জানাতেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, কারাগারের ভিতরে সুবিধা পাওয়া কিংবা হয়রানি থেকে রেহাই পেতে ‘নম্বর কাটার’ নামে ১০ হাজার ৭০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেলিমের বক্তব্য, সেই টাকা জোগাড় করতে পরিবারের গয়না পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
পরিবারের সদস্যদের দাবি, কান্ধলা থানার এক পুলিশকর্মীও আদিলকে কারাগারে পাঠানোর আগে টাকা দাবি করেছিলেন এবং ভয় দেখিয়েছিলেন। তাঁদের কথায়, জেলকে নিরাপদ মনে করেই আদিলকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানেও তিনি নির্যাতনের শিকার হন। আদিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর আত্মীয়-স্বজন জেলা হাসপাতালে জড়ো হন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। আদিলের কাকা ইনাম অভিযোগ করে বলেন, পরিবার সময়মতো টাকা দিতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল। তাঁর দাবি, অর্থ জোগাড়ের আগেই আদিলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছে। জেল সুপারিনটেনডেন্ট অভিষেক চৌধুরী এবং জেলার নীরজ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, আদিলের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়নি। নীরজ শ্রীবাস্তবের বক্তব্য, গত ২৪ জুন আদিল পেটে ব্যথার অভিযোগ করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।