পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের মহোবা জেলায় পারিবারিক কলহের জেরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। চরম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে দম্পতির পাঁচ ও দুই বছরের দুই অবাধ্য শিশুর চোখের সামনেই।
অবশেষে পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশুর জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পনওয়াড়ি থানা এলাকার বীজরাড়ি গ্রামে। অভিযুক্তের নাম হানিফ মনসুরি এবং নিহতের নাম মণীষা (২৭)।

স্থানীয় ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত হানিফ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান ও জুয়ার নেশায় আসক্ত ছিল। শনিবার গভীর রাতে সে মারাত্মক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে। মদ্যপানের তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মণীষা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল বচসা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাগের মাথায় ঘরে থাকা একটি ধারালো হাসুয়া উঁচিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর চড়াও হয় হানিফ।
পাঁচ ও দুই বছরের নিষ্পাপ দুই সন্তানের চোখের সামনেই স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে সে।

খুন করার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজেই পুলিশে ফোন করে হানিফ। সে দাবি করে, তাঁর স্ত্রী হঠাৎই মারা গিয়েছেন। তবে খবর পেয়ে পনওয়াড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়, যা স্বাভাবিক মৃত্যুর দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় হানিফ বারবার নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করতে থাকলে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ঠিক সেই সময় দম্পতির পাঁচ বছরের জ্যেষ্ঠ সন্তান পুলিশ আধিকারিকদের কাছে আসল সত্য উদ্ঘাটন করে। সে জানায়, তাঁর মদ্যপ বাবা কীভাবে হাসুয়া দিয়ে তাঁর মাকে বারবার আঘাত করে মেরে ফেলেছে।