পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের মানুষেরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ নন, তাঁরাও এই সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রবিবার হায়দরাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর সুস্পষ্ট বার্তা, এই সম্প্রদায়ের মানুষেরাও মানুষ, তাঁরাও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারী এবং সনাতন ধর্মে তাঁদের অস্তিত্বের প্রমাণ চিরকালই রয়েছে।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠান চলাকালীন এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আরএসএস প্রধান বলেন, ভারতীয় সমাজে এই ধরনের মানুষের অস্তিত্ব আবহমান কাল ধরেই উপস্থিত।
প্রকৃতির নিয়মেই জন্মগতভাবে কিছু মানুষের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকে। আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বরাবরই তাঁদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে এসেছে। তাই সমাজে তাঁদের কোনওভাবেই একঘরে করে রাখা অনুচিত।আরও পড়ুন:
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি আরও জানান, ভারতীয় সমাজ বরাবরই এই সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পরিবর্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে।
সমাজে তাঁদের নিজস্ব দেব-দেবী ও মন্দির রয়েছে, এমনকি তাঁরা কুম্ভ মেলাতেও অংশগ্রহণ করে থাকেন। তাই এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অহেতুক বিতর্ক না বাড়িয়ে তাঁদের জন্য সমাজে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, মোহন ভাগবতের মুখে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের পক্ষে এই ধরনের সমর্থন নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও একটি সাক্ষাৎকারে হিন্দু ধর্ম ও পুরাণের নানা উদাহরণ দিয়ে তিনি একই কথা বলেছিলেন। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট যখন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সমকামী সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়, তখনও সেই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল আরএসএস। তবে সমলিঙ্গে বিবাহের বিষয়টির ক্ষেত্রে সংগঠনটি এখনও পর্যন্ত বেশ সতর্ক অবস্থানই বজায় রেখেছে।