পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রাজ্য জুড়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পালিত হতে চলেছে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে আগামী ৯ অগস্ট থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ কর্মসূচি পালনের জন্য রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি নাগরিককে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা।

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা থেকে শুরু করে মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভা স্তরে সর্বাধিক মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তেরঙ্গা র‍্যালি ও প্রভাত ফেরির আয়োজন করতে হবে।

ভারতের পতাকা বিধি ২০২৩ মেনে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, এনসিসি, স্কাউট ও গাইড বা যুব ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে সাইকেল ও বাইক র‍্যালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্ত স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়াল জাতীয় পতাকার ছবি, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাণী এবং বন্দে মাতরমের অংশবিশেষ লিখে সাজিয়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। 

সরকারি ভবন থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট বা বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকাগুলোকে তেরঙ্গা থিমের আলো দিয়ে সাজাতে হবে এবং আলপনা দিতে হবে। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য উৎসাহিত করা হবে।

এই দিনগুলিতে বন্দে মাতরম সহ অন্যান্য দেশাত্মবোধক গান সমবেতভাবে গাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের উপর জোর দিয়ে সেমিনার, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করবে প্রশাসন। প্রচারের প্রসারে ব্যানার ও পোস্টারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তেরঙ্গার সঙ্গে নিজেদের ছবি তুলে 'হর ঘর তেরঙ্গা' পোর্টালে আপলোড করতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করতেও উৎসাহ দেওয়া হবে।

এই বিপুল কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে সমস্ত সরকারি দপ্তর, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য জুড়ে ব্যাপক হারে পতাকা বিলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পুরসভাকে দেড় লক্ষ করে এবং কালিম্পং জেলাকে ২০ হাজার জাতীয় পতাকা দেওয়া হবে।