তামিলনাড়ুতে ঈদুজ্জোহা সহ অন্যান্য সময় গো-হত্যার ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের শেষ অংশে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস জারির নির্দেশও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন:
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় তামিলনাড়ু সরকার। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ ১৯৫৮ সালের তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আইনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। যদি কোনো পশুর বয়স ১০ বছরের বেশি হয় অথবা সেটি প্রজনন ও কৃষিকাজে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে জবাই করা আইনসিদ্ধ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে জানিয়েছিল, আইনের নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি তারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবল অনুমোদিত স্লটার হাউসেই পশু জবাই করা যাবে এবং বকরি ইদসহ যেকোনো সময় গো-হত্যা রোধে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাইকোর্টের ওই নির্দেশ ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত সেই নির্দেশ কার্যকর থাকছে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা হবে।