পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডে সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদল আনল রাজ্য সরকার। মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তি এবং নতুন সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাখণ্ড সরকার রাজ্যের ৪৫৬টি মাদ্রাসাকে সরকারি অনুদান দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সভাপতিত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। সরকার জানিয়েছে যে উত্তরাখণ্ড রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠিত হওয়ার পর মাদ্রাসা বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত পুরোনো অনুদান ব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:
আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ রাজ্য সরকারের নিজস্ব অনুদান বাজেট সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব বংশীধর তিওয়ারি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে যেহেতু মাদ্রাসা বোর্ডের আর কোনও অস্তিত্ব নেই, তাই পুরনো অনুদান ব্যবস্থা এবং তার সঙ্গে যুক্ত বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। সেই প্রশাসনিক সমীকরণের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভা আগামী অর্থবর্ষ থেকে মাদ্রাসার অনুদান বাজেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। আগে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা সমস্ত প্রশাসনিক ও তদারকির কাজ এখন থেকে এই নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।তবে রাজ্য সরকারের সরাসরি অনুদান বন্ধ হলেও, কেন্দ্রীয় অনুদানের একটি বিকল্প পথ খোলা থাকছে।
আরও পড়ুন:
সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের বিশেষ সচিব ডঃ প্রাগ মধুকার ধাকাটে জানিয়েছেন, আগের মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমে যে সরকারি অনুদান আসত তা বন্ধ করা হলেও, নতুন কর্তৃপক্ষের দ্বারা স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের 'ইউ-ডিআইএসই' প্রকল্পের অধীনে থাকা যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
আরও পড়ুন:
সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই নতুন কাঠামো প্রণয়নের মূল লক্ষ্যই হল রাজ্যে সংখ্যালঘু শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, উন্নততর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রকল্পগুলিতে শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক স্তরে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে সমাজের একাংশের মধ্যে প্রবল উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তা আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হলে শত শত মাদ্রাসার দৈনন্দিন পরিচালনা এবং পরিকাঠামোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিক্ষার্থীদের, যারা নিজেদের শিক্ষার জন্য সম্পূর্ণভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর নির্ভরশীল। নতুন ব্যবস্থা সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, অনুদান প্রত্যাহারের জেরে মাদ্রাসাগুলির আগামী দিনের শিক্ষাদানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।