পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গণপ্রজাতন্ত্রিক কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখনও পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৭৫৯ জন এবং এর জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬০০ জন।
এই মহামারির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশে। সেখানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ, বকেয়া বেতন ও ঝুঁকি ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্তরের বহু কর্মী কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন।

জাতীয় এবং প্রাদেশিক প্রশাসনের কাছে পাঠানো একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অবিলম্বে তাঁদের পাওনা মেটানো না হলে তাঁরা বড়সড় ধর্মঘটের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ সংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ১৫ মে থেকে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও তাঁরা এখনও পর্যন্ত কোনও পারিশ্রমিক বা ভাতা পাননি। নামমাত্র সরঞ্জাম দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সত্ত্বেও প্রশাসন তাঁদের প্রতি চরম উদাসীন আচরণ করছে। 

ইটুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার মহামারি পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য চিকিৎসক বিয়েনসি কানো জানিয়েছেন, প্রাদুর্ভাব ঘোষণার সময় থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কঙ্গোয় ছড়িয়ে পড়া ইবোলার এই 'বুনডিবুগিও' স্ট্রেইনের প্রতিরোধে এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদিত প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। যদিও অন্যান্য ইবোলা স্ট্রেইনের তুলনায় এটি কিছুটা কম প্রাণঘাতী, তবুও উপযুক্ত ভ্যাকসিনের অভাবে বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা করা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।