পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। প্রস্তাবিত এই খসড়া বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২ জুলাই রাজ্যের মন্ত্রিসভা ইউসিসি-র খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছিল। মন্ত্রিসভার সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই নয়া কমিটি গঠন করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে এই কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র এবং কলকাতা হাইকোর্টের দুই আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক ও নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

রাজ্যে ইউসিসি-র খসড়া বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাতের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আইন কার্যকর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বিজেপি-র নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংকল্পপত্রের কথা বাস্তবায়িত হবে এবং রাজ্যেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর করা হবে।

জানা যাচ্ছে, এই পর্যালোচনা কমিটি রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি সমীক্ষা চালাবে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে বর্তমান আইনগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতার দিকগুলি নিয়েও সরকারের কাছে নিজেদের সুপারিশ জমা করবে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি।