পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরের যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিছক গণপিটুনি নয়, তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হতে পারে। নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে অতিবামপন্থী, ব়্যাডিকাল এবং নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক দলগুলির উসকানি থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নাম ও পরিচয় জেনেই ইন্দ্রজিৎকে টার্গেট করা হয়েছিল।

পাশাপাশি এদিন ফুলতলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অশান্তিতে নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এদিন একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

দাঙ্গাকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের বাড়িটিও ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাও সুনিশ্চিত করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান, পঁয়ত্রিশ বছরের ওই অবিবাহিত যুবককে যারা হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের চরম শাস্তি হবে। অভিযুক্তদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি দেখে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই দিঘা ও বকখালি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই বারুইপুর থেকে এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায় এবং ৫ জুলাই সকালে একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায় এবং আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সূর্যপুর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায়। সেই উত্তেজনার মাঝেই উন্মত্ত জনতা সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে মারে। গত মঙ্গলবারই বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই গণপিটুনি ও হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।