পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আফ্রিকার দুই দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডা-এ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির জেরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান,  এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে এবং অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি এখনও কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছয়নি। সেই কারণেই আপাতত আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করার প্রয়োজন নেই বলেও মত সংস্থার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ৮ জনের শরীরে ইবোলার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ২৪৬ জন সন্দেহভাজন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, কঙ্গো থেকে উগান্ডায় যাওয়া দুই ব্যক্তির শরীরেও ইবোলা ভাইরাস ধরা পড়েছে। রাজধানী কাম্পালায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল দু জনের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ এখনও মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে,  প্রাথমিক পরীক্ষায় অত্যন্ত বেশি হারে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে যে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। ফলে গোটা অঞ্চলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

কী এই ইবোলা ভাইরাস?

ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসঘটিত সংক্রামক রোগ। এটি মূলত বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে আসে। বিশেষ করে বাদুড়কে এই ভাইরাসের অন্যতম বাহক বলে মনে করা হয়। এছাড়া আক্রান্ত শিম্পাঞ্জি, গরিলা,  বানর,  বন হরিণ বা সজারুর শরীরের রক্ত কিংবা তরলের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। এই রোগে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি শরীরের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে। গড়ে প্রায় অর্ধেক রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। বর্তমান সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস।

এটি তুলনামূলক বিরল ধরনের সংক্রমণ এবং এর বিরুদ্ধে এখনও নির্দিষ্ট কোনও অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পুরোপুরি কার্যকর নয়।

কীভাবে ছড়ায় এই রোগ?

আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি,  ঘাম,  লালা,  বীর্য বা শরীরের অন্য তরলের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা বিছানাপত্র,  পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী থেকেও সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংক্রমিত মৃতদেহের সংস্পর্শও অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইবোলার লক্ষণ কী কী?

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিতে দুই দিন থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রথমদিকে সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়। যেমন-হঠাৎ জ্বর, প্রবল দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, এরপর পরিস্থিতি গুরুতর হলে শুরু হতে পারে বমি, ডায়রিয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, কিডনি ও যকৃতের সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রে নাক, মাড়ি বা শরীরের ভিতর থেকে রক্তপাতও হতে পারে।