পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফাঁসির সাজা থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি দেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।

সম্প্রতি সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি পলাতক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান।

বর্তমানে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই শাসকদল বিএনপি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভি স্পষ্ট জানান, হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে সাধারণ মানুষ চায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের দায়ে আদালত তাঁকে যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, তা অবিলম্বে কার্যকর হোক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকার সেখানে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করছে না।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পেছনে গভীর কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামাত-ই-ইসলামি। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, সরকারের ভিতরেরই কোনও বিশেষ অংশ হয়তো আওয়ামি লিগকে দেশের রাজনীতিতে পুনরায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে এবং সেই ইন্ধনেই হাসিনা এই ঘোষণা করেছেন। যদিও জামাতের এই সন্দেহ ও অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছে বিএনপি সরকার।


এই গোটা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছে গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। 

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তা কেবল তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই হবে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এই ধরনের সাক্ষাৎকার দেওয়া বা রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করার কোনও আইনি অধিকার নেই বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, হাসিনা দিল্লি বসে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। বর্তমানে সমগ্র দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫৩টি হত্যা মামলা-সহ মোট ৬৬৩টি মামলা চলছে।