পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে এবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ নিয়ে মুখ খুলল নয়াদিল্লি। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ঢাকার করা অনুরোধটি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে এই বিষয়টি বিচারবিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং ভারত এই ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ঢাকা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফরে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

গত বছর বাংলাদেশের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ ২০২৪-এর আন্দোলনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর দায়ে শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

২০২৪ সালের আগস্টের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, তা স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বিএনপি নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। জয়সওয়াল এদিন স্পষ্ট করে বলেন, “বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে ভারত ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।”