পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় ফের তদন্তকারী অফিসার (আইও) বদল করল জেলা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশ আধিকারিক দিগন্ত মণ্ডলের হাতে। পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় বারুইপুর থানার প্রাক্তন আইসি জয়ন্ত পোদ্দারকে। তবে এ বার নতুন করে তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জেলা পুলিশের ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক শান্তনু মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে মামলার প্রতিটি দিক নতুন করে খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
ঘটনাচক্রে, শনিবারই বারুইপুরের সূর্যপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি নিহত নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সব রকম সহযোগিতা এবং দ্রুত সুবিচারের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই সূর্যপুর এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির জোরালো দাবি তুলেছিলেন স্থানীয়েরা। গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সেই দাবি পূরণের কথা জানিয়েছিলেন এবং ঘোষণার মাত্র চার দিনের মাথায় শনিবার তিনি নিজে ওই পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিযুক্ত চার জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেউ কেউ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বসিরহাট এলাকায় পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় তাদের ধরে আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এই ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।আরও পড়ুন:
গত ৪ জুলাই, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ওই কিশোরী এবং রবিবার একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। রাস্তা এবং রেললাইন অবরোধ করে দিনভর বিক্ষোভ দেখায় সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে, যার পৃথক তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।আরও পড়ুন:
এই গোটা ঘটনাপ্রবাহে পুলিশের তরফে একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে। ধর্ষণ ও খুনের পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলা, রেললাইন অবরোধ এবং গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে। গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং তাঁর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, এলাকায় অপরাধের শিকড় সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত বেআইনি মদ ও গাঁজার ঠেক নষ্ট করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।