পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই শিল্পায়নের ভোল বদলে ফেলার বার্তা দিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের আমলে শিল্পের ক্ষেত্রে জমি জট, স্থানীয় স্তরের কাটমানি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার মতো যে সমস্ত অভিযোগ উঠত, তা পুরোপুরি দূর করে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট বা তামিলনাড়ুর সমতুল্য প্রথম সারির শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রির দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের শিল্পপতিদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা যে জমি, সেই বিষয়ে শিল্পপতিদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান, রাজ্যে শিল্প গড়তে জমির কোনও সমস্যা হবে না। সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাজ্য সরকার ২০১৩ সালের সরাসরি জমি ক্রয় নীতি বা ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ পলিসি মেনেই কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই নীতির মাধ্যমেই বিএসএফ, রেল বা নতুন বিমানবন্দরের জন্য জমি কিনে দেওয়া হচ্ছে। ঠিক একইভাবে বিনিয়োগে আগ্রহী শিল্পপতিদের জন্য সরকার সরাসরি জমি কিনে তাঁদের হাতে তুলে দেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।আরও পড়ুন:
নতুন ইউনিট তৈরির ক্ষেত্রে জেলা বা গ্রামীণ প্রশাসনের টালবাহানা এবং স্থানীয় স্তরের দাদাগিরি বা হয়রানি থেকে শিল্পপতিদের মুক্তি দিতে বড়সড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীকে আর গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা বা কর্পোরেশনের থেকে কোনও রকম অনুমতির জন্য ঘুরতে হবে না। এর বদলে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম বা এক জানলা ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাব্লুবিআইডিসি, ভূমি দফতর এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সরাসরি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র প্রদান করবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ ও বাধামুক্ত হবে।