টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ, আর জলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন আড়াই লাখের বেশি পরিবার।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলা বন্যাকবলিত।
আরও পড়ুন:
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ভূমিধসে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন এবং বান্দরবানে সাতজন নিহত হয়েছেন। দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।
আরও পড়ুন:
ওই দেশের মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার এখনও জলবন্দী।
ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন অবস্থান করছেন। দুর্গতদের সহায়তায় সরকার নগদ অর্থ, চালসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।আরও পড়ুন:
অবিরাম বৃষ্টির কারণে দেশটির শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনও দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর কারণ হিসেবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়েছে।