পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লিতে নিট পরীক্ষার্থী এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র তীব্র আন্দোলনের জেরে শনিবার পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে তাঁর এই ইস্তফায় সন্তুষ্ট নন প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আত্মঘাতী হওয়া পরীক্ষার্থী আকাঙ্ক্ষার মা নীলম চতুর্বেদী। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তিনি। নীলমদেবীর স্পষ্ট দাবি, সরকার কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি চক্রীকে অবিলম্বে ফাঁসির সাজা দিতে হবে।

ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন।

আদতে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবারের সঙ্গে নাগপুরে চলে এসেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন তিনি। গত ৩ মে পরীক্ষা দেওয়ার পর তিনি মাকে জানিয়েছিলেন যে পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর পেয়ে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই মেধাবী ছাত্রী।

এরপর গত ২০ মে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মৃত্যুর আগে লেখা একটি সুইসাইড নোটে আকাঙ্ক্ষা জানান যে, প্রথম পরীক্ষা তাঁর খুব ভালো হলেও পুনরায় সেই পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিক জোর তাঁর আর অবশিষ্ট নেই। পরের বার একইরকম ভালো ফল করার কোনও নিশ্চয়তাও তিনি পাচ্ছিলেন না। মেয়ে ডাক্তার হবে, বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করতে না পারায় চিঠিতে তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি।

নীলমদেবী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর স্বামী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এবং ইতিমধ্যে তাঁর দু’বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। মেয়ে বেঁচে থাকলে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিত বলে আক্ষেপ করেন তিনি।