পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে গত ২০ জুলাইয়ের সংসদ ভবন অভিযান ঘিরে অবশ্য ব্যাপক পুলিশি গাফিলতি এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, সিজেপি-র সেই কর্মসূচিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত সাত রাউন্ড ছররা গুলি বা পেলেট গান চালিয়েছিলেন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)-এর এক জওয়ান। যার মধ্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি আন্দোলনকারীদের শরীরে আঘাত করে এবং দু'টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর ফলে পঁচিশ বছরের ইরশাদ শেখ, উনিশ বছরের সাহিল লোচাব এবং আঠাশ বছর বয়সি এক ইংরেজি পত্রিকার সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন:
সিআরপিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কনট প্লেসের কাছে আন্দোলনকারীদের একাংশ হঠাৎ নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করলে ওই জওয়ান পাল্টা ছর্রা গুলি চালান। সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন যে তাঁরা পুরো বিষয়টি পেশাদারিত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে কী করণীয় তা নির্ধারণ করছেন।
আরও পড়ুন:
তবে এই ঘটনায় খোদ র্যাফের অন্দরেই তীব্র অসন্তোষ ও সমন্বয়ের অভাব প্রকাশ্যে এসেছে। বাহিনীর আইজি সীমা ধুন্ধিয়া এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাহিনীর সদস্যদের তাঁদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানানো হয়নি এবং আঞ্চলিক সদর দফতরকেও বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।আরও পড়ুন:
পাশাপাশি, অনেক জওয়ানের মাথায় হেলমেট বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ না থাকা নিয়েও তিনি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত দিল্লিতে পেলেট গান বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো অস্ত্র ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন র্যাফের আইজি। বিরোধী দলগুলিও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র নিন্দা করে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে।