পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের মধ্যে। ফ্রান্স ও নরওয়ে ম্যাচে এই দুই তারকার দিকেই তাকিয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। অথচ ম্যাচের যাবতীয় আকর্ষণ একাই কেড়ে নিয়ে গেলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড উসমান ডেম্বেলে। বিশ্বকাপে শেষ ৭২ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের হ্যাটট্রিক করে নজির গড়লেন তিনি। ডেম্বেলের দুরন্ত হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে গেল ফ্রান্স। ফরাসি দলের হয়ে বাকি গোলটি করেন ডেজিরে ডুয়ের। নরওয়ের হয়ে একমাত্র গোলটি থেলো অসগার্ডের।

প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে আগেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছিল ফ্রান্স ও নরওয়ে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ছিল তাদের মধ্যে শীর্ষে থাকার লড়াই। লড়াইটা ছিল এমবাপ্পে ও হালান্ডের মধ্যেও, একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার। কিন্তু শুরুতেই চমক।

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ১০টি পরিবর্তন নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেনের। আরও চমক, প্রথম ২ ম্যাচে ৪ গোল করা তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকেও প্রথম একাদশে রাখেননি তিনি। গ্রুপ শীর্ষে থাকার লক্ষ্যে ফ্রান্স অবশ্য ঝুঁকি নেয়নি। প্রথম একাদশে চারটি পরিবর্তন করলেও শক্তিশালী দলই মাঠে নামান ফ্রান্সের কোচ।

কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে মাইকেল ওলিসে, উসমান ডেম্বেলে, প্রত্যেকেই প্রথম একাদশে। আসলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্স হওয়াটা তেমন ফ্যাক্টর ছিল না নরওয়ে কোচ সোলবাকেনের কাছে। চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্স হলে মুখোমুখি হতে হবে আইভরি কোস্ট কিংবা সুইডেনের। দুই দলকেই সমমানের মনে করে সেরা একাদশ খেলানোর রাস্তায় হাঁটেননি।

ফ্রান্সের কাছে নরওয়ে ম্যাচ একদিকে যেমন ছিল শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের, অন্যদিকে সম্মানেরও। তাই সেরা ফুটবলারদের বসিয়ে রাখার বিলাসিতা দেখাননি দিদিয়ের দেশঁ’র অবর্তমানে দায়িত্বে থাকা সহকারী কোচ জি স্টেফান। প্রথম একাদশের সেরা ১০ জন ফুটবলার না থাকায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল নরওয়ে।

তার ওপর হালান্ডের মতো স্ট্রাইকার না থাকাটা বাড়তি স্বস্তি দিয়েছিল ফ্রান্সকে। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। সেই মতো ৭ মিনিটের মধ্যে এগিয়েও যায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন ডেম্বেলে।

গোলের পর আক্রমণে আরও ধার বাড়ায় ফ্রান্স। ২০ মিনিটে আবার গোল করে ব্যবধান বাড়ান ডেম্বেলে। এবারও গোলের কারিগর সেই এমবাপ্পে। এক মিনিটের মধ্যেই নরওয়ের হয়ে ব্যবধান কমান থেলোনিয়াস অসগার্ড। ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল নরওয়ে। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি ডেম্বেলে। ম্যাচের ৩১ মিনিটে আবার গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

ডেম্বেলের ৩২ মিনিটের এই হ্যাটট্রিক ম্যাচের শুরু থেকে হিসেব করলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্ট। সেই হিসেবে ডেম্বেলের হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপে গত ৭২ বছরের মধ্যে দ্রুততম।  

দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের দাপট অব্যাহত ছিল। তার মাঝেই নরওয়ের সামনে আরও একবার ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল। ম্যাচের ৫০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল নরওয়ে। যুর্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল শট আটকে দেন ফ্রান্সের গোলকিপার মাইক মাইনিয়ঁ। ম্যাচের বাকি সময়ে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে নরওয়ে ডিফেন্সকে ফালাফালা করে দিচ্ছিল ফ্রান্স। বেশ কয়েকটা সুযোগও তৈরি হয়। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ে দেজিরে দুয়ে জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন। তাতেই ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে ওঠে ফ্রান্স। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকল নরওয়ে।