প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষায় ব্যর্থতার মুখ দেখলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়তে নারাজ জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। এবার তিনি নিজেই সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন একসময় দেশের অন্যতম সফল নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত পিকে।

বাঁকিপুর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক নীতীন নবীন রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ওই আসনটি শূন্য হয়েছে।

ফলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। আর সেই আসন থেকেই গেরুয়া শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান প্রশান্ত কিশোর।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমার প্রার্থী হওয়া যদি বাঁকিপুরের মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে তাদের পরাজয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে, তাহলে আমি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত।

প্রশান্ত কিশোরের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল একটি শূন্য আসনের নির্বাচন নয়, বরং বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও বড় পরীক্ষা। তাঁর দাবি, বিহারের মানুষ ভোট দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার-কে সামনে রেখে। বর্তমানে রাজ্যের নেতৃত্বে থাকা সম্রাট চৌধুরী কতটা গ্রহণযোগ্য, এই নির্বাচন তারই মূল্যায়ন করবে।
গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ কোনও আসনে জয় পায়নি।
তবে দলটি প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ ভোট অর্জন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। সেই নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হননি প্রশান্ত কিশোর। অনেকেই মনে করছেন, সরাসরি ভোটের ময়দানে না নামাই তাঁর দলের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কৌশল বদল করতে চাইছেন পিকে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে জন সুরাজের সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সম্ভাব্য সমঝোতার জল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, প্রথম নির্বাচনী ধাক্কার পরও পিছু হটতে রাজি নন প্রশান্ত কিশোর। বরং সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নেমে নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।