পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ম্যাচের প্রথম একাদশ যখন ঘোষণা হচ্ছিল, শুধু গ্যালারি নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীরা অবাক। লিওনেল মেসিকে বাইরে রেখে প্রথম একাদশ সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। অবাক হওয়ার আরও আছে। প্রথম একাদশে ৯টি পরিবর্তন। আসলে শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে জর্ডনের বিরুদ্ধে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করে নিতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়েও ছন্দময় আর্জেন্টিনার জর্জনের বিরুদ্ধে জয় ৩,১। পরবির্ত হিসেবে মাঠে নেমে গোল করে আবার এক রেকর্ড লিওনেল মেসির। রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়েও আর্জেন্টিনার জয় অন্য বার্তা দিয়ে গেল বাকি দেশগুলিকে।
আরও পড়ুন:
শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জর্ডন যে সেভাবে লড়াই করতে পারবে না, এটা জানাই ছিল। কিন্তু স্ক্যালোনির রিজার্ভ বেঞ্চও এতটা দাপট দেখাবে, সত্যিই ভাবা যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা যেন নিজেদের ছায়ার সঙ্গে খেলছিলেন। ১৫ মিনিট আর্জেন্টিনার বলের দখল ছিল ৮২ শতাংশ।
এর থেকেই বোঝা যায় কতটা দাপট নিয়ে শুরু করেছিল লিওনেল স্ক্যালোনির দল। এর মধ্যেই ৭ মিনিটে লো সেলসোর পাস থেকে জর্ডানের জালে বল জড়িয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। অফসাইডের জন্য সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।আরও পড়ুন:
যদিও গেলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে, অপেক্ষা করার কথাও ছিল না। ১৯ মিনিটেই গোল। বক্সের ঠিক বাইরে লাউতারো মার্টিনেজকে ফাউল করেন জর্ডনের এক ফুটবলার। রেফারি ফ্রিকিকের নির্দেশ দেন। বাঁপায়ের দুরন্ত ফ্রিকিকে বল জালে জড়িয়ে দেন জিওভান্নি লো সেলসো। জর্ডন গোলকিপার নড়ার সুযোগ পাননি। মেসি তখন মাঠে ছিলেন না। সেলসোর এই ফ্রিকিকেই মনে করিয়ে দিলেন মেসিকে।
আরও পড়ুন:
৩১ মিনিটেই ২,০।
মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন তাগলিয়াফিকো। লাউতারো মার্টিনেজের শট ক্রশবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সেনেসি হেড করার সময় বল বিপদমুক্ত করার জন্য তাঁর মুখের সামনে পা তোলেন জর্ডনের আল রাশদান। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আবেদনের পর ‘ভিএআর’ পর্যালোচনার মাধ্যমে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। জর্ডনের গোলকিপারকে উল্টোদিকে ফেলে ২,০ করেন লাউতারো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকলেও গোলসংখ্যা আর বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে কিছুটা তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে জর্ডন। ৫৪ মিনিটে পাল্টা আঘাত। ডানদিক থেকে ভেসে আসা নিচু সেন্টারে পা ছুঁইয়ে গোল করে ব্যবধান কমান মুসা আলতামারি। এই গোলের পর আর ঝুঁকি নেননি স্ক্যালোনি। জর্ডনের ওপর চাপ বাড়াতে ৬০ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে মাঠে নিয়ে আসেন মেসিকে। এই মুহূর্তের জন্য যেন অপেক্ষা করছিল গ্যালারি।
গোটা স্টেডিয়ামে ঢেউ, দর্শকদের ‘মেসি মেসি’ চিৎকার। যাকে নিয়ে এত আবেগের বন্যা, তিনি কিন্তু নির্বিকার। ধীরস্থির, স্বাভাবিক ছন্দে মাঠে নামলেন।আরও পড়ুন:
এরপর ৮০ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত। জর্জন ডি বক্সের বাইরে ২৫ গজ দূরে ফ্রিকিক। নতুন কবিতা লেখার অপেক্ষায় মেসি। বহু চেনা বাঁ পায়ের সেই নিখুঁত শট। জর্জন ফুটবলারদের প্রাচীর ভেদ করে জালে। গোলকিপার ইয়াজিদ আবুলাইলা নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখলেন বল জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোলের রেকর্ড। ফুটবল ইতিহাসে অনন্য নজির। ভেঙে দিলেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোকে। শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, মেসিও জীবনের শেষ বিশ্বকাপে অন্য বার্তা দিয়ে চলেছেন।