মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী-র শপথ নেওয়ার মাত্র ৫২ দিনের মাথায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে চলেছে। সোমবারের অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড সংক্রান্ত বিলের দিকে, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় পদক্ষেপ
রাজ্য সরকার আজ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল বা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। বিলটি পেশ হলে তা বিশেষ বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে পাঠানো হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক পৃথক আইন বাতিল হয়ে একটি অভিন্ন আইনের আওতায় সমস্ত নাগরিককে আনা হবে।
কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,“পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে সরকার ইউনিফর্ম সিভিল কোড আনবে। পাশাপাশি লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে।”
সুকান্ত মজুমদার বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে বিরোধীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।
সরকার আজ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’ পেশ করতে চলেছে। এই বিলে সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বিল অনুযায়ী—দুষ্কৃতীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। তাদের আশ্রয় বা সহযোগিতা করলেও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অভিযুক্তদের এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-ও পেশ করা হবে। এই বিলে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলে কেউ রেহাই পাবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
অন্যদিকে তৃণমুলের কুণাল ঘোষের দাবি, এই বিল অত্যন্ত কঠোর এবং তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
এছাড়াও আজকের অধিবেশনে অর্থ বিল এবং অনগ্রসর শ্রেণি সংক্রান্ত বিলও পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সোমবারের অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।