২৬ দিনের অনশন ভাঙার পর কেন্দ্রের সঙ্গে ‘রফা’ করার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়ে তারই জবাব দিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ২৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “এত কিছুর পরেও কি আমাকে এখন সততা ও চরিত্রের সার্টিফিকেট দিতে হবে?”

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের আশ্বাস পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।

অনশন ভাঙার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তোলেন, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হাত থেকে পানীয় গ্রহণ করে অনশন ভাঙলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াংচুক বলেন, “সরকারের সঙ্গে আমার কোনো গোপন চুক্তি হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়বিচার এবং তাঁদের দাবিগুলো পূরণ হোক— এটাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি জানান, ২৬ দিনের অনশনে তাঁর প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে গেছে এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি এখন ধীরে ধীরে তরল খাবার গ্রহণ করছেন এবং কিছুটা উঠে বসতেও পারছেন।

সমালোচকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক বলেন, “লাদাখের ঠান্ডা ছেড়ে দিল্লির প্রচণ্ড গরমে ২৬ দিন অনশন করেছি। তারপরও কি আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমার আন্দোলন সৎ ছিল? অন্য কারও কাছ থেকে কি এবার চরিত্রের শংসাপত্রও আনতে হবে?”

তিনি আরও বলেন, অনেকেই তাঁর কাছে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, সরকারের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা এমন অভিযোগ করছেন, তাঁদের আমি ধিক্কার জানাই। আপনারা জানেন না, আমি এবং আমার পরিবার গত কয়েক দিনে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছি।”

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা নিরপেক্ষভাবে প্রশ্ন করছেন, তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। অন্যের কথা বিশ্বাস করার আগে সবাইকে নিজে তথ্য যাচাই করার আহ্বানও জানান তিনি।

ভিডিও বার্তার শেষে আন্দোলনের সময় যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক।