পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে তাঁকে রোগীর পরিবর্তে ‘বন্দীর মতো’ রাখা হয়েছিল— এই অভিযোগ তুলে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির সফদারজং হাসপাতালে নজরদারির কড়াকড়িকে তিনি একপ্রকার “উত্তর কোরিয়ার শাসনের” সাথে তুলনা করেন। সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সমর্থনে নিট পরীক্ষা অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন ৫৯ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারী। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে গত ১৮ জুলাই ভোরে পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক উদ্ধার করে সফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতিতে গত মঙ্গলবার তাঁকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের হাসপাতাল কক্ষ থেকে রেকর্ড করা একটি ২৪ মিনিটের ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওটা স্রেফ কোনো হাসপাতাল ছিল না; সেটা ছিল একটা সামরিক সেনানিবাস, একটা কারাগার! আমাকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যে বোধহয় একজন কয়েদি বা অপরাধীকেও সেভাবে রাখা হয় না।”
আরও পড়ুন:
সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেন, সফদারজং হাসপাতালে তাঁর ওপর চরম বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছিল। ঘরের বাইরে পা রাখার অনুমতি ছিল না।
কক্ষের আশেপাশে কাউকে ভিড় করতে দেওয়া হয়নি। কেবল তিনজন নিকটাত্মীয়কে কাছে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কাছে কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ রাখতে দেওয়া হয়নি। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কাগজের ন্যাপকিনে বার্তা বা নোট লিখে পাঠাতে চাইলে পুলিশ মাঝেমধ্যে সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করত। পুরো পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ওয়াংচুক মন্তব্য করেন, “এই পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল যেন হুবহু উত্তর কোরিয়ায় থাকার মতো।”