পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের অন্যতম বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র আন্দোলনে শামিল হয়ে আজ ১৯ দিনে পা দিল ওয়াংচুকের আমরণ অনশন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, সমাজকর্মীর প্রাণ বাঁচাতে অবিলম্বে সমস্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ করেন, "যেকোনো নাগরিকের জীবনই অত্যন্ত মূল্যবান এবং তা রক্ষার্থে সরকারি কর্তৃপক্ষের সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালানো উচিত"।
আরও পড়ুন:
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে গত বুধবার আদালতে একটি জরুরি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক যদি অবিলম্বে অনশন না ভাঙেন, তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনশনের জেরে ওয়াংচুক প্রায় ৮.৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। মামলকারীর অভিযোগ, সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত "উদাসীন ও সংবেদনহীন" আচরণ করছে।
আরও পড়ুন:
শুনানি চলাকালীন সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উদ্দেশে আদালত প্রশ্ন তোলে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারির জন্য সরকারিভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুষার মেহতা জানান, সমাজকর্মীর দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে সবসময় যে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই যাচ্ছেন তা নয়, মাঝেমধ্যে বেসরকারি ডাক্তারদেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এই উত্তরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানায়, "আমরা চাই এই ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিদিন এবং নিয়মিতভাবে শুধুমাত্র সরকারি চিকিৎসকদের টিম দ্বারাই করা হোক। তাঁদের দৈনিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো জীবনকেই এভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না।"