অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগ ঘিরে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার স্পিকার সতীশ মহানার মন্তব্য, “যাঁরা সত্যিকারের ভক্তিভরে রামলালার চরণে দান করেননি, তাঁদেরই প্রণামীর টাকা চুরি হয়েছে।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার এক অনুষ্ঠানে সতীশ মহানা বলেন, “আমাদের টাকা চুরি হয়নি। সেই অর্থ মন্দির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এবং আজ যে মহিমান্বিত রামমন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটাই তার প্রমাণ। যাঁদের মনে প্রকৃত ভক্তি রয়েছে, তাঁরা কখনও দান করা অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না।
”আরও পড়ুন:
স্পিকারের এই মন্তব্যকে ঘিরে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রণামী চুরির মতো গুরুতর ঘটনাকে তিনি হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন মহানা। তাঁর দাবি, চুরির ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে গোটা রামজন্মভূমি আন্দোলন বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দদেব গিরি দাবি করেছেন, মন্দির থেকে ১৩ কোটি টাকা চুরির খবর সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, হিসাব অনুযায়ী চুরি যাওয়া অর্থের পরিমাণ চার কোটির বেশি নয়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে প্রণামী চুরিতে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন ট্রাস্ট-ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত।
আরও পড়ুন:
দান করা অর্থ ভক্তদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত কি না—এই প্রশ্নের জবাবে সতীশ মহানা বলেন, “কেউ কি কখনও ভগবানের উদ্দেশে দেওয়া দান ফেরত চান? যদি কেউ মনে করেন তাঁর অর্থ চুরি হয়েছে, তবে সরকার ও ট্রাস্ট দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কয়েকজনের অপরাধের জন্য পুরো রামজন্মভূমি আন্দোলন বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে চোর বলা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।”
রামমন্দিরের প্রণামী চুরি ঘিরে তদন্ত এখনও চলছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।