উন্নয়নের নামে নির্বিচারে বনভূমি উজাড় ও ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বম্বে হাই কোর্ট। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, পরিবেশের এই ক্ষয় যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য সঙ্গে করে অক্সিজেন সিলিন্ডার বহন করতে হতে পারে।
মহারাষ্ট্রে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পালঘর জেলার প্রায় ৩.৩৫ হেক্টর বনভূমিতে ৮৪৭টি ম্যানগ্রোভ গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মহারাষ্ট্র রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। সেই মামলার শুনানিতেই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে আদালত।


ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ম্যানগ্রোভ ও বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে মুম্বই ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মুম্বইয়ে এমনিতেই বিশুদ্ধ বাতাসের অভাব রয়েছে। এভাবে গাছ কাটতে থাকলে এমন দিন আসবে, যখন মানুষকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়েই চলাফেরা করতে হবে। সেই দিন আর খুব দূরে নয়।

শুধু গাছ কাটা নয়, ক্ষতিপূরণমূলক বৃক্ষরোপণের বর্তমান ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছে হাই কোর্ট। সরকার যেখানে গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছে, সেখান থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে সোলাপুরে বৃক্ষরোপণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আদালত প্রশ্ন তোলে, দূরবর্তী এলাকায় গাছ লাগালে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পরিবেশ কীভাবে পুনরুদ্ধার হবে?
মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, যে এলাকায় গাছ কাটা হবে, তার কাছাকাছি জায়গাতেই বৃক্ষরোপণের জন্য জমি চিহ্নিত করা হবে।

আদালতও পরবর্তী শুনানির আগে পালঘর সংলগ্ন এলাকায় উপযুক্ত জমি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন আদালত আরও মন্তব্য করে, “আপনারা শুধু চারাগাছ লাগানোর ছবি তোলেন। পরে সেই গাছ বেঁচে আছে কি না, তার খোঁজ নেন না। শুধু বৃক্ষরোপণের সংখ্যা দেখালেই পরিবেশ রক্ষা হয় না।”

তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তারা বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিরোধিতা করছে না। উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে আদালত। গাছ কাটার আগে বিকল্প বৃক্ষরোপণ শুরু করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।