পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত বেশ কিছু সময় ধরে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এসব হামলা রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারবে না।
আরও পড়ুন:
গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একাধিক তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন একের পর এক হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি নিজনেকামস্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারেও কিয়েভ হামলা পরিচালনা করেছে। এই ধরনের হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা রুশ অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন:
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের এসব হামলায় দেশের কিছু আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রাশিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছে। তার অভিযোগ, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো রুশ সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করা।
তবে সেই অপচেষ্টা সফল হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, দেশের জনগণ এখনও সরকারের পাশে অটল রয়েছে এবং বাইরের কোনো চাপই সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারেনি।আরও পড়ুন:
পুতিন সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, এসব হামলা মস্কোর সংকল্পকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারবে না। রুশ অর্থনীতি বিষয়ে ক্ষতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই আমাদের কিছু ক্ষতি করছে, কিন্তু আমরা খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনীতির যতটুকু ক্ষতি করতে চায়, তারা তা করতে সক্ষম হবে না। একইসঙ্গে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং ইউক্রেনের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে রুশ হামলাও ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।