পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের উদ্দেশ্যে শনিবার ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই সফর চলবে সপ্তাহব্যাপী। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গ্লোবাল সাউথের উদ্বেগ এই সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সফর শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় ফ্রান্সের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি জানান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর বিস্তৃত আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের নিস শহরে 'ভারত ইনোভেটস' অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন, এভিয়ানে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং প্যারিসে ভিভাটেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ১৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সফরের প্রথম পর্বে নরেন্দ্র মোদী ফ্রান্সের নিস শহরে থাকবেন। সফর শুরু করার আগে প্রধানমন্ত্রী একটি বিবৃতিতে জানান, ফ্রান্সের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায়। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে এসেছিলেন। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি বিশেষ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়েছে।
তার পর থেকে হওয়া অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হবে এবং সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পারিক স্বার্থ আছে সেই সব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।আরও পড়ুন:
ফ্রান্স সফরের পর দ্বিতীয় পর্বে ১৪ ও ১৫ জুন নরেন্দ্র মোদী স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভা সফর করবেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে দেশটির স্বাধীনতার পর এটাই কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম স্লোভাকিয়া সফর। সেখানে তিনি স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেল্লেগ্রিনি এবং সেখানকার প্রভাবশালী নেতা রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। মোদী আশা প্রকাশ করেন, এই সফর ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাকে আরও গতি দেবে। এছাড়া, ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে। স্লোভাকিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আবার ফ্রান্সে ফিরে ১৬ ও ১৭ জুন অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের প্রচারমূলক অধিবেশনে যোগ দেবেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, মিশর, কেনিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই অধিবেশনে অংশ নেবে।