ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে জনগণকে ‘লাঠি ও পাথর দিয়ে’ তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বারাকের এই মন্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এহুদ বারাক এই মন্তব্য করেন।
তার দাবি, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে বা বানচাল করতে নেতানিয়াহু সামরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারেন।আরও পড়ুন:
বারাক বলেন, “আমার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তিনি খুব সহজেই তা করতে পারবেন। যদি তিনি এমন চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে লাঠি ও পাথর দিয়ে মেরে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
আরও পড়ুন:
২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটকে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম কট্টরপন্থি সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
সেই অনুযায়ী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।আরও পড়ুন:
এহুদ বারাকের অভিযোগ, লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন নেতানিয়াহু, যাতে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং তার জেরে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তার দাবি, “নেতানিয়াহু অন্তহীন যুদ্ধ চান। কারণ তিনি জানেন, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির মতো লেবানন ইস্যুতেও কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতারও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “এক কথায়— খারাপ, দুই কথায়— খুবই খারাপ।” তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য ও দূরদর্শিতার অভাবের ফলই এখন ভোগ করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরও কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
এদিকে বারাকের এই মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি। দলের আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিসমুথ অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্যত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, “বারাককে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত। যদি তিনি মানসিকভাবে সুস্থ বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা উচিত।”