পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে। সোমবার ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন এবিষয়ে জানান বলে মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্তারা জানান।
তবে এই যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা মার্কিন-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আরও পড়ুন:
অনেকেই মনে করছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের তিনটি প্রধান স্তম্ভকে সরাসরি আঘাত করেছে, যা তাঁর কাছে এক বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এতদিন নেতানিয়াহু নিজেকে ওয়াশিংটনের প্রধান রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে দাবি করতেন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কীভাবে এই ইরান চুক্তি সম্পাদিত হলো? এই ঘটনা কি তাঁর জন্য চরম অপমানজনক? ইসরায়েলে নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এমন পরিস্থিতি তাঁর ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অভিমত ব্যক্ত করছেন।আরও পড়ুন:
সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মন্তব্য করেন যে, নেতানিয়াহুর সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে।
হয় তাকে সবচেয়ে বড় মিত্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটতে হবে, অথবা ইসরায়েলি স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ইসরায়েলি হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। অক্টোবর মাসের আগে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো এই সুযোগকে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে, নেতানিয়াহুর নিজের রাজনৈতিক দল লিকুদ পার্টি এবং জোট সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের মন্তব্যের কারণেও তিনি প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে তেহরান দাবি করেছে যে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে। যদিও নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবানন থেকে তিনি সেনা প্রত্যাহার করবেন না। এর আগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই ইরান চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়, কারণ তারা এই চুক্তির কোনো অংশীদার নয়।আরও পড়ুন:
সূত্র- বিবিসি