পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বীরভূমের সিউড়িতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরীর ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় স্থানীয় বিজেপির চার নেতার ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পরেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের শোকজ নোটিস দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি সূত্রে খবর, অভিযুক্ত নেতাদের তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে দল আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা যাচ্ছে।

কিছু দিন আগে সিউড়ির সাজানো পল্লি এলাকায় অবস্থিত বিকাশ রায় চৌধুরীর ভাড়াবাড়িতে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল ও কম্বল মজুত থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। অভিযোগ, সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রাক্তন বিধায়কের ভাড়াবাড়ির তালা ভেঙে ত্রাণসামগ্রী লুটপাটের চেষ্টা করা হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে বিজেপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। অন্যদিকে, বিকাশ রায় চৌধুরী দাবি করেছেন যে তিনি নিজেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বাড়িতে ত্রাণসামগ্রী পড়ে থাকার কথা তিনি জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়ে দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার পরই বাড়িতে না জানিয়ে প্রবেশ করে ত্রাণসামগ্রী লুট করার চেষ্টা চালানো হয়।

যদিও কোন চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি দলীয় নেতৃত্বও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম জানাতে নারাজ। সিউড়ি শহর বিজেপির সভাপতি সুনয়ন ভান্ডারি জানান, তাদের দল দলীয় শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং এমন কোনো কাজ সমর্থন করে না যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দলীয় নীতির পরিপন্থী আচরণের অভিযোগ ওঠায় তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ত্রাণসামগ্রী লুট সংক্রান্ত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।