পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ ১০০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির এই অভাবনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পশ্চিম এশিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ব্যাপক প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়েছিল।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহণ চরমভাবে ব্যাহত হয়। ভারতও এর ব্যতিক্রম ছিল না। জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে পেট্রল, ডিজেল, সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রান্নার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণেও নানা জটিলতা দেখা দেয়। যুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় নাবিক বোঝাই একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। সেই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ফলে সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ভারতের ওপরও পড়েছিল। শান্তি চুক্তির ঘোষণা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভারতের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এরসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ-এ জানান, ইরানের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তি সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এরফলে এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহণ আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। জানা যাচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের প্রতিনিধিরা তেহরানে পৌঁছবেন। এরপর সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।